Friday, April 29, 2011

ইসলামে সম্পদ বন্টন ব্যবস্থা

যারা জীবন সংগ্রামে ব্যর্থতার সম্মুখীন, দারিদ্র্যের কষাঘাতে যাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত, যারা বিপদগ্রস্থ তাদের অধিকার রয়েছে প্রতিটি ধনী মুসলমানের ধন-সম্পদে। কুরআন ও হাদিসে গরিব-দুঃখী মানুষের উপকার সাধনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। 
এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে-
“তাদের ( ধনীদের ) ধন-সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিত লোকদের হক বা অধিকার রয়েছে”।( সূরা যারিয়াত: ১৯)

দরিদ্রকে দান করলে ধনসম্পদ কমে না বরং বৃদ্ধি পায়। হাদিসে আছে-

“কোন ব্যক্তি যদি হালাল পথে উপার্জিত সম্পদ দান করে সেই দানকৃত বস্তু যদি একটি খেজুর পরিমানও হয় তবে আল্লাহ তাআলা তাকে পাহাড় পরিমান নেকী দেবেন”।

প্রিয় নবী (স.) বলেছেন-

“যে ব্যক্তি ক্ষুধার্তকে অন্নদান করে, আল্লাহপাক তাকে জান্নাতে ফল খাওয়াবেন। যে তৃষ্ঞার্তকে পানি পান করায়, আল্লাহ তাকে জান্নাতে শরবত পান করাবেন। যে কোন দরিদ্রকে বস্ত্র দান করে আল্লাহপাক তাকে জান্নাতে পোষাক দান করবেন”।(তিরমিযী)

হাদিসে আছে-

“সকল সৃষ্টিই আল্লাহর আপনজন। অতএব, তিনিই আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় যিনি তার পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ করেন”।

নবী (স.) আরও বলেছেন-

“ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরনে সচেষ্ট হয়, আল্লাহ তায়ালা তার প্রয়োজন পূর্ণ করে দেন”।

মহানবী (স.) বলেছেন-

“তোমরা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দয়া কর, তা হলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন”।

অসহায় মানুষের সেবা না করলে আল্লাহ সদয় হবেন না। এ প্রসঙ্গে মহানবী (স.) বলেন-

“যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না”।

মানুষ মানুষের ভাই। সুতরাং কেউ ক্ষুধার্থ, তৃষ্ণার্ত, পীড়িত, অভাবগ্রস্থ বা বিপদগ্রস্থ হলে তার প্রতি সদয় হওয়া, তার দুঃখ মোচনে যথাসাধ্য চেষ্টা করা মানুষের কর্তব্য। এ প্রসঙ্গে মহানবী (স.) বলেন-

“ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, রুগ্ন ব্যক্তির সেবা কর, বন্দিকে মুক্ত কর এবং ঋনের দায়ে আবদ্ধ ব্যক্তিকে মুক্ত কর”।

0 comments:

Post a Comment